![]() |
|
সহজ উপায় অনলাইনে ইনকাম! |
বর্তমানে সক্রিয়ভাবে চারশত কোটির ও বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করি।আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যে টাকে বলা হয় (গোলভাল ভিলেজ)যেখানে ভৌগলিক অবস্থান বা আর্থিক সংস্থার অভাবের ভিত্তিতে আপনি কী অর্জন করতে পারবেন তার আর কোন সীমাবদ্ধতা নেই। আপনি কি তৈরী আপনার স্কীল বা দক্ষতাকে মুনাফায় পরিনিত করতে,আপনি কি নিজের একটি অনলাইন ব্যবসায় শুরু করতে প্রস্তুত,তবে কোথায় শুরু করবেন তা নিশ্চিত নন? অনলাইনে অর্থ উপার্জন করার জন্য ৪০০-৫০০ ও বেশী পথ বা পেলাটফ্রাম আছে । আমি যে গুলো সহজ পথ আমরা নিচে শুরু করতে যাচ্ছি যেটাতে আপনার নিয়মিত রুটিনে বেশি সময় প্রয়োজন পরবে না। অনলাইনে অর্থ উপর্জনের কয়েকটি সেরা এবং সঠিক পন্থা বলার আগে ,কিছু কথা আপনাদের জেনেরাখা দরকার।
আপনি রাতারাতি কোটিপতি বা লাখোপতি হয়ে যাবেন সেরকম কোনো বৈধ উপায় নেই অনলাইনে ।এখনে কাজ করার সময় যেসব লোকেরা দ্রুত ও সহজ উপয় বা কোনো লোভনীয় পথ গুলির বিষয়ে কথা বলে সেগুলি বেশির ভাগই পেতারনা মূলক পথ হয় যা প্রথমে বৈধ লাগলেও পরে তার আসল রূপ ধরা পরে । অবশ্য কিছু কিছু পদ্ধতিতে আপনি কয়েক হাজার টাকা অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন,তবে সেগুলি আপনাকে আর্থিক ভাবে স্বাধীন এবং আপনার জীবন যাত্রর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেতে সহতা করবেনা। সর্বপরি,এগুলি শর্টকাট যা চিরকাল স্থায়ী হই না,এবং এই সুযোগ গুলিপ্রায় “পথ’’/ঠকবাজ হই। এই পথ গুলির ফাঁদে যদি আপনি পরেন তাহলে খুব কমসময়ে আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনিষ্টকার হয়ে উঠেতে পারে,তাই আপনার ওই রকম কোনো পথ এ যাওয়ার আগে তার ব্যাকগ্রাউন্ড পুরোপুরি খোচ খবের নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে এগোবেন ।
এখন আমরা আপনাদের সাথে অনলাইনে আয় করার কয়েকটি নিশ্চিত উপায় শেয়ার করার পাশাপাশি কয়েকটি জনপ্রিয় অনলাইন ইনকাম সাইট শেয়ার করব। আশাকরি আপনি ধৈর্য্যধারণ করে ২/৪ মাস কাজ করলে আপনিও মাসে মাসে অনলাইনে টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন। অনলাইনে কাজ শুরুর দিকে আপনার কাছে বিষয়টি কঠিন মনে হবে। কিন্তু ধিরে ধিরে আপনার কাছে সহজে হয়ে উঠবে। আপনি একটি জিনিস মনে রাখবেন, কেউ একদিনে বড় হয়নি, বড় হওয়ার জন্য সময় দিতে হয় এবং ধৈর্য্য ধরে কাজ চালিয়ে যেতে হয়।
১। YouTube হতে টাকা আয়
২। গ্রাফিকস ডিজাইন করে আয়
৩। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম
৪। এফিলিয়েট মার্কেটিং
৫। ব্লগিং করে বা ব্লগে আর্টিকেল লিখে
১। YouTube হতে টাকা আয়:-অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে সহজ পথ হচ্ছে YouTube. এখান থেকে যে কোন বয়সের লোক খুবই সহজে টাকা ইনকাম করতে পারেন। ইন্টারনেট বিশ্বের জনপ্রিয় পাঁচটি ওয়েবসাইটের মধ্যে YouTube হচ্ছে একটি। আপনি ইচ্ছে করলেই এখান থেকে কম সময় ব্যয় করে অল্প অভীজ্ঞতা নিয়ে মাসে ভালো মানের টাকা অনলাইনে ইনকাম করতে পারেন। এই জন্য আপনাকে যেটি করতে হবে- প্রথমে বিভিন্ন ভাল মানের ভিডিও YouTube এ আপলোড করতে হবে। ভিডিও তৈরি করার জন্য আপনার মোবাইল ফোনকে ব্যবহার করতে পারেন।
*কিভাবে ইউটিউব এ ব্যান্ডিং বা বিজনেস চ্যানেল তৈরি করতে হয়?
*ইউটিউব প্রতি ১০০০ ভিউতে কত টাকা দেয়? এবং
*কিভাবে ইউটিউব ভিডিও এসইও করবেন?
যদি সময় পাই তাহলে আল্লাহ পাকের মেহরবানীতে পরবর্তী কোন আটিক্যালে এই বিষয় গুলো নিয়ে লিখব। ইনশাল্লাহ
আপনার যে কোন স্কীল বা যে কোন দরনের আইডিয়া এই মাধ্যম টি কাজে লাগাতে পারেন । উদহরন স্বরুপ বলা যায় আপনি যদি ভ্রমন প্রিয় লোক হন তাহলে বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর প্রকৃতিক দৃশ্যগুলো আপনার মোবাইলের ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দী করেও এ কাজটি করতে পারেন। অথবা আপনি যে বিষয় ভালভাবে জানেন সে বিষয়ে বিভিন্ন ভিডিও টেউটরিয়াল তৈরী করেও কাজটি করতে পারেন। যারা গৃহিনী রয়েছেন তারা চাইলে বিভিন্ন রান্নার রেসিপি টিপস ভিডিও তৈরি করে নিতে পারেন। এখনকার মোবাইল ফোনে অনেক ভালোমানের ভিডিও রেকর্ডিং করা যায় বিধায় আপনি চাইলে আপনার মোবাইল দিয়ে ক্যামেরার সামনে বসে ভিডিও বানাতে পারেন অথবা ক্যামেরার সামনে আসতে না চাইলে মোবাইল দিয়ে স্ক্রিন ভিডিও রেকর্ড করে বিভিন্ন ধরনের টিউটরিয়াল ভিডিও তৈরি করতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন কারও কোন নকল ভিডিও কপি করে এটি করা যাবে না। এতে করে হিতের বিপরীত হতে পারে।
২। গ্রাফিকস ডিজাইন করে আয়:- অনলাইনে গ্রাফিকস ডিজাইনের চাহিদা প্রচুর পরিমানে রয়েছে। অনলাইনে ঘরে বসে আয়ের ক্ষেত্রে গ্রাফিকস ডিজাইন একটি ভালো উপায়। যারা এই কাজে দক্ষ, তারা বিভিন্ন ডিজাইন বিষিয়ক অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে তাদের নিজেস্ব ডিজাইন দিয়ে রাখেন। সেখান থেকে তাদের ডিজাইনগুলো ক্রেতাদের পছন্দ হলে কিনে নেয়। এ ধরনের একটি পণ্য অনেকবার বিক্রি হয়, অর্থাৎ একটি ভালো নকশা থেকেই দীর্ঘদিন পর্যন্ত আয় হতে থাকে। অনলাইনে এ ধরনের অনেক ওয়েবসাইটে গ্রাফিকসের কাজ বিক্রি করা যায়। গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার কাজটি আপনি প্রাথমিকভাবে এডোবি ফটোশপ থেকে শুরু করতে পারেন।
আপনার ডিজাইন গুলো কোন কোন ওয়েবসাইটে গ্রাফিকসের কাজ বিক্রি করা যায়। এই বিষয় গুলো নিয়েও সময় করে আলোচনা করবে । ইনশাল্লাহ
৩। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম:- জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এখন আর শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নয়। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি সহজে অনলাইন হতে আয় করতে পারবেন। আপনার ৩-৫ টি ফেসবুক পেজে প্রচুর পরিমানে ফলোয়ার থাকলে আপনি ঘরে বসে খুব সহজে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন কোম্পানির নিকট থেকে ফেসবুকে টাকা আয় করতে পারবেন। কারণ যেকোন কোম্পানির পন্যের প্রচারের জন্য এখন ফেসবুক ও টুইটার খুবই জনপ্রিয় মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে আপনার জনপ্রিয় কোন সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন কোম্পানি আপনার সাথে যোগাযোগ করবেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যান-ফলোয়ার তৈরিসহ তাঁদের ধরে রাখতে প্রচুর ধৈর্য ও প্রাসঙ্গিক বিষয় হওয়া জরুরি।
৪। এফিলিয়েট মার্কেটিং:- অনলাইনে অন্যের প্রোডাক্ট বিক্রি করে কমিশন পাওয়ার মাধ্যমে আয় করাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়। আপনি যদি অনলাইনে বেশি টাকা উপার্জন করতে চান এবং যদি পরিশ্রমী আর ধৈর্য্যশীল মানুষ হন, তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আনলিমিটেড টাকা ইনকাম করতে পারবেন। উন্নত দেশের পাশাপাশি বর্তমানে আমাদের দেশের মানুষও এখন বেশি পরিমানে অনলাইন শপিং করছে। মূলত মোবাইল ব্যাংকিং চালু হওয়ার কারনে আমাদের দেশের অনলাইন মার্কেটিং বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে ইনকাম করার সুযোগ বেড়েছে। এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আমি আমার ব্লগে এফিলিয়েট মার্কেটিং সংক্রান্ত পোস্ট করবে । ইনশাল্লাহ
৫। ব্লগিং করে বা ব্লগে আর্টিকেল লিখে:- আপনি গুগল ব্লগারে কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসে বিনা মূল্যে একটি ব্লগ তৈরী করে নিতে পারেন। গুগল ব্লগার সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি ব্লগ তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে। তাছাড়া গুগল ব্লগার দিয়ে ব্লগ তৈরি করা খুব সহজ হওয়ায় আপনি চাইলে আপনার মোবাইল দিয়ে মাত্র ৫থেকে১০ মিনিটে নিজের একটি ব্লগ তৈরি করে নিতে পারেন। গুগল ব্লগার দিয়ে ব্লগ তৈরি । পোস্ট আপনার নিজের একটি ব্লগ তৈরি করার জন্য নিচের বিষয় গুলো*কিভাবে BlogSpot দিয়ে একটি ফ্রি ব্লগ তৈরি করতে হয়?
*কিভাবে BlogSpot ব্লগে Custom Domain সেটআপ করতে হয়?
*Blogging নাকি YouTube: কোনটি দিয়ে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়?
*Google Blogger নাকি WordPress, কোনটি ব্যবহার করবেন?
পরবর্তী কোন আটিক্যালে এই বিষয় গুলো নিয়ে লিখব। ইনশাল্লাহ
তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন ব্লগ তৈরী করে থেমে থাকলে হবে না। আপনার যে বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান আছে, আপনি সে বিষয় নিয়ে লিখে যাবেন। এ ক্ষেত্রে হয়তো আপনি প্রথম ১-২ মাস একটু কষ্ট করতে হবে। তাই বলে আপনি নিরাশ হয়ে থেমে থাকবেন না। আপনি প্রতিদিন নিত্য নতুন আর্টিকেল লিখতে থাকেন। আপনার বিষয়টি যদি ইউনিক এবং জ্ঞানগর্ভপূর্ণ হয় তাহলে ভিজিটর অবশ্যই আপনার ব্লগে আসবে। এ ক্ষেত্রে সফলতা পেতে আপনাকে বেশী দিন অপেক্ষা করতে হবে না। আপনি নিজে নিজেই টাকা উপার্জনের পথ সুঘম করে নিতে পারবেন।ইনশাল্লাহ
আজকের এই লেখার মাধ্যমে আমি আপনাদের শুধু অনলাইনে ইনকাম করার সহজ কয়েকটি পথ দেখিয়ে দিলাম। যার ফলে আপনি এই পথ ধরে অনলাইন হতে কিছু টাকা আয় করে নিতে পারেন। আর আপনার যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে এ সম্পর্কে আমার ব্লগের কমেন্ট করে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন। আল্লাহ হাফেজ


0 Comments